Daily Bangladesh
  1. অর্থনীতি
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  4. খেলাধুলা
  5. জাতীয়
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. পাঠক মতামত
  8. ফিচার
  9. বিজ্ঞান ও গবেষণা
  10. বিনোদন
  11. ব্যবসা ও বানিজ্য
  12. রাজনীতি
  13. লাইফস্টাইল
  14. শিক্ষা
  15. সাহিত্য ও সংস্কৃতি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

E69 Highway: পৃথিবীর শেষ রাস্তা

Link Copied!

অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর দেশ নরওয়েতে একটি রাস্তা আছে যাকে বলা হয় ‘পৃথিবীর শেষ রাস্তা’ বা ‘E69 Highway’। এই স্থানটি ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০০০ মিটার উপরে। এই রাস্তা ধরেই স্থলপথে উত্তর মেরুর সবচেয়ে কাছে যাওয়া যায়। সে কারণেই একে বলা হয় ‘দ্য লাস্ট রোড অফ দ্য ওয়ার্ল্ড (The Last Road of The World)’।

রাস্তার দু’পাশের যে দৃশ্য তা দেখে মনে হবে আপনি হয়তো পৃথিবীর শেষ প্রান্তে চলে এসেছেন। পৃথিবীর শেষ রাস্তায় একা একা ঘুরতে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ। বিশেষ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই রাস্তা পর্যটকদের মনে এক ধরনের রহস্য মিশ্রিত রোমাঞ্চের জন্ম দেয়।

E69 Highway-এর ইতিহাস

পৃথিবীর শেষ রাস্তা ‘ই সিক্সটিনাইন হাইওয়ে (E69 Highway)’ ধরে যত দূরে যাবেন ততই মনে হবে পৃথিবী বোধহয় এখানেই শেষ হয়ে গেছে আর হয়তো সামনে যাওয়া যাবে না। এই রাস্তাটি উত্তর মেরুর সঙ্গে নরওয়ে সংযোগ স্থাপন করে। রাস্তাটি শুরু হয়েছে নরওয়ের ওল্ডলফজর্ড থেকে, আর শেষ হয়েছে ইউরোপের সর্ব উত্তরের স্থান নর্ডক্যাপে গিয়ে।

পৃথিবীর শেষ রাস্তা E69-এর দৈর্ঘ্য ১২৯ কিলোমিটার। দীর্ঘ এই রাস্তায় ৫টি টানেল রয়েছে। টানেলগুলোর সম্মিলিত দৈর্ঘ্য ১৫.৫ কিলোমিটার। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ নর্থ কেপ টানেলটির দৈর্ঘ্য ৬.৯ কিলোমিটার। এই টানেলটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬৯৬ ফুট পর্যন্ত গভীর। আন্তর্জাতিক মহাসড়কগুলোর মধ্যে ‘E69 Highway’ সবচেয়ে উত্তরের রাস্তা। এই মহাসড়কটি ‘আন্তর্জাতিক ই-রোড’ নেটওয়ার্কের অন্তর্ভুক্ত।

জাতিসংঘের ‘ইউরোপীয়ান অর্থনৈতিক কমিশন (UNECE)’ এই মহাসড়ক ব্যবস্থার বিন্যস্ত করেছেন। ‘E69 Highway’ এর পরিকল্পনা করা হয়েছিলো ১৯৩০-এর দশকে। এর ৪ বছর পর ১৯৩৪ সালে রাস্তাটি তৈরির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। তবে নর্ডক্যাপের সঙ্গে সড়ক সংযোগ চালু হয় ১৯৫৬ সালে। আর বর্তমান E69 Highway রোড ঠিক করা হয়েছিলো ১৯৯২ সালে।

Midnight Sun and Northern Light
Image: Midnight Sun and Northern Light

তার আগে এই রাস্তা নরওয়েতে ‘রোড-৯৫’ নামে পরিচিত ছিল। অতীতে এসব রাস্তার মাঝে থাকা জলাধারগুলো পার হওয়ার জন্য ফেরি চলাচল করত। ২০১২ সালের পরে রাস্তাগুলো পারাপারের জন্য ফেরির পরিবর্তে নর্থ কেপসহ অন্যান্য টানেলগুলো চালু করা হয়। পৃথিবীর শেষ রাস্তায় একা-একা ঘুরতে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ। এটির অভিনব ভৌগলিক অবস্থানের কারণে এখানে কাউকে একা যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় না। এখানে চলাচলের জন্য আগে থেকেই অনুমতি নিতে হয়। একাধিক ব্যক্তি একসঙ্গে এই রাস্তায় যেতে পারবেন। এই রাস্তায় বেশিরভাগটাই বরফের চাদরে মোড়া। ফলে চারপাশ অনেকটা একইরকম দেখতে। তাই রাস্তা হারিয়ে ফেলার সম্ভাবনা বেশি।

আরও পড়ুন: ডার্ক ওয়েব: ইন্টারনেট দুনিয়ার এক অন্ধকার জগৎ

শীতকালে আবহাওয়ার পূর্বাভাস থেকে এই রাস্তায় চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রেও বেশ কয়েকটি গাড়ি বহর একসাথে হওয়ার পর অনুমতি মেলে। এই হাইওয়েতে তীব্র বাতাস ও প্রচন্ড ঠান্ডা হাওয়া অনুভূত হয়। রাস্তায় কখন কি ঘটে তা আগে থেকে কখনও বলা যায় না। ঝড়বৃষ্টি কিংবা তুষারপাত এখানকার নিয়মিত ঘটনা। গ্রীষ্মকালেও এখানে মাঝে মাঝে তুষারপাত হতে দেখা যায়।

রাস্তা যতই সমুদ্রের কাছে পৌঁছাতে থাকে ততই এর অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকে। শীতকালে রাস্তাটির সর্ব উত্তরের অংশ বরফে ঢাকা পরে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। E69 Highway এর বেশিরভাগ অংশই দেখতে একইরকম। তবে কোথাও কোথাও ছোট ছোট পাহাড় দেখা যায়। রাস্তার ধারে কিছু নরওয়েজিয়ান গ্রামও দেখা যায়। তবে এসব পল্লী এতই ছোট যে এগুলোকে গ্রাম না বলে বিক্ষিপ্ত বসতিও বলা যেতে পারে।

এই পথের বাঁকে বিভিন্ন ভিউ পয়েন্টও আছে। পৃথিবীর শেষ রাস্তা যে অঞ্চলে অবস্থিত সেখানে বছরের ছয় মাস দিন আর বাকি ছয় মাস রাত। শীতকালে এখানকার তাপমাত্রা -৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্তও নেমে যায়। আর গ্রীষ্মকালে এই এলাকার তাপমাত্রা ০ ডিগ্রির আশেপাশে থাকে।

পৃথিবীর শেষ রাস্তার শেষ প্রান্তে নর্ডক্যাপ পৌরশহরের অবস্থান। প্রতিবছর গ্রীষ্মকালে প্রায় ২ লক্ষ পর্যটক এই রাস্তা ধরে নর্ডক্যাপ পৌরশহরে ঘুরতে যায়। কারণ এখান থেকে নিশীথ সূর্য ও মেরু জ্যোতির মতো বিরল প্রাকৃতিক দৃশ্য মন ভরে উপভোগ করা যায়।

Preikestolen
Image: Preikestolen

পৃথিবীর শেষ রাস্তার মতো নরওয়ের আরেকটি জায়গা আছে যা ‘পৃথিবীর শেষ প্রান্ত’ হিসেবেও পরিচিত। এই জায়গার নাম ‘প্রাইকেস্টোলেন (Preikestolen)‘। এখানে গেলে মনে হবে আপনি হয়তো পৃথিবীর শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছেন।