Daily Bangladesh
  1. অর্থনীতি
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  4. খেলাধুলা
  5. জাতীয়
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. পাঠক মতামত
  8. ফিচার
  9. বিজ্ঞান ও গবেষণা
  10. বিনোদন
  11. ব্যবসা ও বানিজ্য
  12. রাজনীতি
  13. লাইফস্টাইল
  14. শিক্ষা
  15. সাহিত্য ও সংস্কৃতি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হা লং উপসাগর: পৃথিবীর এক প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য

Link Copied!

ভিয়েতনামের নয়নাভিরাম সুন্দর এক জায়গা হা লং উপসাগর বা Hạ Long Bay। ভিয়েতনামের কুয়াংনি প্রদেশে উপসাগরটি অবস্থিত। এই উপসাগরের বিশেষত্ব হলো স্বচ্ছ ফিরোজা রঙ এর জল এবং অসংখ্য ছোট ছোট দ্বীপ।

১৯৯৪ সালে হা লং উপসাগরকে ইউনেস্কো ‘বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং ২০০৭ সালে হা লং উপসাগর পৃথিবীর নতুন প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।

ভিয়েতনামের হা লং শহরের নামে এই উপসাগরের নাম রাখা হয়েছে হা লং উপসাগর। ভিয়েতনামি শব্দ ‘হা লং (Hạ Long)’ অর্থ ‘ভূমিতে নেমে আসা ড্রাগন’। হা লং উপসাগরের আয়তন ১ হাজার ৫৫৩ বর্গকিলোমিটার। এই সম্পূর্ণ এলাকাজুড়ে প্রায় ২ হাজার পাথুরে দ্বীপ রয়েছে। এইগুলোর মধ্যে মাত্র ২টি বড় দ্বীপ রয়েছে। ‘তুয়ান চাউ’ এবং ‘কাট বা’ হা লং উপসাগরের সবচেয়ে বড় দ্বীপ। এইসব দ্বীপের মূল উপাদান হলো চুনাপাথর।

Hạ Long Bay
Hạ Long Bay

ধারণা করা হয়, প্রায় পঞ্চাশ কোটি বছর আগে চুনাপাথরগুলো সৃষ্টি হয়েছিল। উপসাগরে কিছু দূর পরপর গোলক ধাধার মতো চুনাপাথরের পাহাড়ি দ্বীপগুলো ছড়িয়ে রয়েছে। হা লং উপসাগরের এইসব পাহাড়ি দ্বীপে ছোট বড় বেশ কিছু গুহাও রয়েছে। এখানকার সবচেয়ে বড় গুহার নাম ‘সাংগ সট’। যার অর্থ হলো ‘আশ্চর্য গুহা’। এই গুহার ছাদ থেকে অদ্ভুত রকমের পাথরের প্রাকৃতিক কারুকাজ চোখে পড়ে।

গবেষণা থেকে জানা যায়, প্রায় দশ হাজার বছর আগ থেকে মানুষ এখানে বসবাস করে আসছে। বর্তমানেও এখানে মানব বসতি রয়েছে। এমনকি এই উপসাগরের মাঝেও রয়েছে চারটি ভাসমান গ্রাম। গ্রামগুলো ‘কুয়া ভান’, ‘বা হ্যাং’, চং টাউ’ এবং ‘ভুং ভিয়েঙ’ নামে পরিচিত। এইসব গ্রামে মাত্র দুই হাজারেরও কম লোক বসবাস করে। ভাসমান গ্রামের সবাই পেশায় মৎসজীবী।

আরও পড়ুন: চীনের অর্থনৈতিক উত্থান; অতীত থেকে বর্তমান

হা লং উপসাগরকে কেন্দ্র করে একটি উপকথাও প্রচলিত আছে। স্থানীয়রা ধারণা করে, অতীতে শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ঈশ্বর একটি ড্রাগন পরিবারকে পাঠিয়েছিল। যেখানে ড্রাগনরা অবতরণ করেছে সে স্থানের নাম হয়েছে ‘হা লং’। যার অর্থ হলো ‘ভূমিতে নেমে আসা ড্রাগন’। তখন থেকেই এইসব চুনা পাথরের দেওয়ালগুলো তাদের প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করছে। যখন দস্যু জাহাজ তাদের আক্রমণ করতে আসতো তখন এইসব জাদুকরী পাহাড়গুলোর সাথে ধাক্কা লেগে শত্রু জাহাজ ধ্বংস হয়ে যেতো।

Hạ Long Bay
Hạ Long Bay

এছাড়া তারা আরো মনে করে, ড্রাগনরা লেজ দিয়ে তাদের শত্রুদের সাথে যুদ্ধ করেছে। যে জায়গায় ড্রাগন লেজ দিয়ে যুদ্ধ করেছে সে জায়গার নাম ‘বাক লং ভি দ্বীপ’। তাদের বিশ্বাস, ড্রাগনের থুথু মণি-মুক্তা হয়ে সাগরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। দস্যুদের সাথে যুদ্ধ শেষে ড্রাগনরা এই নয়নাভিরাম পরিবেশে স্থায়ীভাবে বাস করার ইচ্ছা পোষণ করে। যেখানে ড্রাগন শিশুরা তাদের মায়েদের সাথে বসবাস করতো সে স্থানের নাম ‘বাই তু লং দ্বীপ’। লং অর্থ ‘ড্রাগন’ এবং বাই তু অর্থ ‘মায়ের সাথে ছেলে’।

হা লং উপসাগর অপরুপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি জীব বৈচিত্র্যও সমৃদ্ধ। এখানে প্রায় ৪৫০ প্রজাতির শামুক ঝিনুক জাতীয় অমেরুদণ্ডী প্রাণী, ২০০ প্রজাতির মাছ এবং ১৪ প্রজাতির ফুল রয়েছে। এই উপসাগরের জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ।

এখানে মূলত দুইটি ঋতু। শীতকাল ও গ্রীষ্মকাল। প্রতিবছর ২৫ লক্ষের ও বেশি লোক হা লং উপসাগরে বেড়াতে আসে। ঘুরতে আসা দর্শকদের জন্য কায়াকিং, মাছ ধরা, স্কুয়া ড্রাইভিং এবং স্নোরকেলিং এর ব্যবস্থা রয়েছে।

ভিয়েতনামে হা লং উপসাগরের চেয়েও বিস্ময়কর আরেকটি প্রাকৃতিক অঞ্চল আছে। সেটি হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গুহা। এই গুহার নাম ‘হ্যাংসন ডুং‘। এই গুহার ভিতরে আন্ডারগ্রাউন্ড রিভার বা ভূ-গর্ভস্থ নদী রয়েছে। গুহাটি এতই বড় যে এই গুহার নিজস্ব জলবায়ু রয়েছে।