Daily Bangladesh
  1. অর্থনীতি
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  4. খেলাধুলা
  5. জাতীয়
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. পাঠক মতামত
  8. ফিচার
  9. বিজ্ঞান ও গবেষণা
  10. বিনোদন
  11. ব্যবসা ও বানিজ্য
  12. রাজনীতি
  13. লাইফস্টাইল
  14. শিক্ষা
  15. সাহিত্য ও সংস্কৃতি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পৃথিবীর ৬টি স্থান যেখানে সূর্যাস্ত হয় না

Link Copied!

পৃথিবীতে সময়কে পরিমাপ করা হয় ২৪ ঘণ্টায় একদিন হিসেবে। ১২ ঘণ্টা সূর্যালোক আর ১২ ঘণ্টা রাত। আলো আর আঁধারের এই সমন্বয়কে মেনে নিয়েই মানুষের দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক কার্যক্রম। অর্থাৎ ঘুম-জাগরন, কাজকর্ম ইত্যাদি পরিচালিত হয়। কিন্তু পৃথিবীর সব জায়গাতেই দিন ও রাত সমান নয়।

জেনে অবাক হবেন এই পৃথিবীতে এমনও স্থান রয়েছে যেখানে টানা ৭০ দিনেরও বেশি সময় ধরে সূর্যাস্ত যায় না। কল্পনাকেও হার মানানো এইসব জায়গাতে স্থানীয় লোকেরাও দিন ও রাতের হিসাবে গোলমাল করে ফেলে। ভ্রমণ পিপাসু ব্যক্তিরা এইসব স্থানে গিয়ে একপ্রকার দিশেহারা হয়ে পড়েন।

কেমন হবে যদি আপনিও এমন কোন জায়গায় বেড়াতে গিয়ে কখন ঘুমাবেন এবং কখন জেগে উঠবেন তা নিয়ে বিভ্রান্ত হয়ে যান! এবার জানা যাক পৃথিবীর এমন ৬টি স্থান সম্পর্কে যেখানে সূর্য কখনো অস্ত যায় না।

Alaska

আলাস্কাঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অঙ্গরাজ্য আলাস্কা। উত্তর-পশ্চিম গোলার্ধে অবস্থিত এই অঞ্চলে মে থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত সূর্যাস্ত হয় না। দর্শনীয় হিমবাহ এবং তুষারাবৃত পর্বতবেষ্টিত দেশটি এই সময় ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য অন্যতম আদর্শ একটি স্থানে পরিণত হয়। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা টুরিস্টরা আলাস্কায় এই সময় হাইকিং করেন। রাতের বেলায় সূর্যের আলোয় বরফের এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখে পর্যটকেরা বিস্মিত হন।

Canada

কানাডাঃ পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ কানাডার বেশ কিছু জায়গা সারা বছর বরফে ঢাকা থাকে। সুমেরুবৃত্তের ২ ডিগ্রি উপরে অবস্থিত নোনাভাটইউনিভিকসহ এই বরফ ঢাকা অঞ্চলগুলোতে গ্রীষ্মকালে টানা ৫০ দিন পর্যন্ত সূর্য ২৪ ঘণ্টায় আলো দেয়। আপাতদৃষ্টিতে খুবই অস্বাভাবিক মনে হলেও দর্শনার্থীরা এই সময়টাতে কানাডার এইসব উল্লেখযোগ্য স্থানে বেড়াতে যান। পর্বত আরোহন, উষ্ম ঝর্ণা, বিভিন্ন ঐতিহাসিক সমাধি দর্শন ছাড়াও এই দীর্ঘ দিনের আলোতে অনেকেই পৃথিবীর উত্তরাংশের বিখ্যাত মেরুজ্যোতি বা Aurora দেখার আশায় ছুটে যান কানাডায়।

Iceland

আইসল্যান্ডঃ ইউরোপ মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ বলা হয় আইসল্যান্ডকে। বিভিন্ন কারণে বিখ্যাত এই অনিন্দ সুন্দর দেশের অন্যতম বৈশিষ্ট হলো মে থেকে জুলাই পর্যন্ত সূর্যের আলোয় দেশটি সম্পূর্ণ আলোকিত থাকে। আক্ষরিক অর্থে এই পুরোটা সময় জুড়ে এইখানে সূর্য ডোবে না। দিগন্ত রেখার উপরে সূর্যকে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা বহাল তবিয়তে লক্ষ্য করা যায়। নিশীত সূর্যকে সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যায় এখাকার আকুরেরি এবং গ্রিমসি দ্বীপে। মোহনীয় সুমেরুজ্যোতি বা নর্দান লাইটের জন্য খ্যাতি আছে এই অঞ্চলের। এছাড়াও এই সময়টাই আইসল্যান্ডে হাইকিং, বন্যপ্রানী ও তিমি মাছ দর্শন, গুহায় অবস্থান করা, সাইকেল ভ্রমণ ও বিভিন্ন পার্কে বেড়ানোর সুযোগ রয়েছে। আইসল্যান্ড ভ্রমণের আরেকটি আকর্ষণীয় ব্যাপার হলো এখানে আপনাকে কোন মশার কামড় খেতে হবে না। কারণ আইসল্যান্ডে কোন মশা নেই।

Norway

নরওয়েঃ উত্তর গোলার্ধের সুমেরুবৃত্তে অবস্থিত নরওয়েকে বলা হয় নিশীত সূর্যের দেশ। মে মাস থেকে শুরু করে জুলাই মাসের শেষ পর্যন্ত প্রায় টানা ৭৬ দিন এই অঞ্চলে সূর্য ডোবে না। এই সময় প্রতিদিন প্রায় ২০ ঘণ্টা এই দেশের প্রায় সব স্থানে ঝকঝকে সূর্যের আলো দেখা যায়। বাকি সময়টায় আলো তেজ কমে গেলেও দিগন্তে সূর্যের অবস্থানের কোন পরিবর্তন হয় না এবং কখনোই এখানে রাতের সূর্য নেমে আসে না। আর এখান থেকেই ‘নিশীত সূর্য’ নামটি এসেছে। নরওয়ে এবং ইউরোপের সর্ব উত্তরে মানুষের বসবাসের স্থানের নাম ‘সাভালবার্ড’। এখানে এপ্রিলের ১০ তারিখ থেকে আগস্টের ২৩ তারিখ পর্যন্ত বিরতিহীন দিনের আলো দেখা যায়। স্থানীয়রা এই প্রাকৃতিক বিষয়ের সাথে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারলেও দর্শনার্থীদের প্রায়শই দীর্ঘ সময় আলোতে থাকার কারণে ক্লান্তি, নিদ্রাহীনতা এবং সময়কেন্দ্রিক বিভ্রান্তিতে পড়তে হয়।

আরও পড়ুন: E69 Highway: পৃথিবীর শেষ রাস্তা

Stockholm, Sweden

সুইডেনঃ উত্তর গোলার্ধের স্কেন্ডেভিয়ান দেশ সুইডেন এই অংশের অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশ উষ্ণ। সুইডেনে বছরে প্রায় ৬ মাস ধরে টানা সূর্যালোকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সাধারণত মে মাস থেকে আগস্টের শেষ সময় পর্যন্ত সুইডেনে মাঝরাতে সূর্য দিগন্ত রেখায় অবস্থান করে। এরপর ভোর ৪টার দিকে সূর্য আবারও উদিত হয়। দীর্ঘ সময় দিনের আলোতে গলফ খেলা, মাছ ধরা, ট্র্যাকিং, নর্দান লাইট বা মেরুজ্যোতি দেখা সহ বিভিন্ন রোমাঞ্চকর কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা যায়। ২১শে জুন সুইডেনে উত্তরায়ণের ফলে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় সূর্য দেখা যায়। একে সামার সলেস্টিসও বলে।

Glass Igloos, Finland

ফিনল্যান্ডঃ হাজার হ্রদ ও দ্বীপের দেশ ফিনল্যান্ড। মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশবেষ্টিত এই দেশটিতে গ্রীষ্মকালে টানা ৭৩ দিন আকাশে সূর্য দেখা যায়। দীর্ঘ সময় দিনের আলো থাকায় এই সময়টাতে স্থানীয়রা প্রায় না ঘুমিয়েই দিন যাপন করে। দীর্ঘ নিদ্রাহীনতা ও ক্লান্তি দূর করতে শীতকালের বেশিরভাগ সময় তারা ঘুমিয়ে কাটায়। গ্রীষ্মকাল ফিনল্যান্ডকে ভিন্ন একরূপে ধরা দেয়। নর্দান লাইট দেখার পাশাপাশি এই সময় ফিনল্যান্ডে স্কিং করা যায়। এছাড়াও গ্লাস দিয়ে তৈরি ‘ইগলু’ নামের বাড়িগুলোতে থাকার জন্য ফিনল্যান্ড বেশ বিখ্যাত। দর্শনীয় স্থান এবং মনোরম পরিবেশেরে জন্য টানা সূর্যালোকের এই সময়টাতে ফিনল্যান্ডে ঘুরতে আসে হাজারো মানুষ।