Daily Bangladesh
  1. অর্থনীতি
  2. আন্তর্জাতিক
  3. খেলাধুলা
  4. জাতীয়
  5. তথ্যপ্রযুক্তি
  6. পাঠক মতামত
  7. ফিচার
  8. বিজ্ঞান ও গবেষণা
  9. বিনোদন
  10. ব্যবসা ও বানিজ্য
  11. রাজনীতি
  12. লাইফস্টাইল
  13. শিক্ষা
  14. সাহিত্য ও সংস্কৃতি
  15. স্থানীয় সংবাদ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঋণের দায়ে জর্জরিত, আরও ঋণ নেওয়ার চেষ্টা জেলে বসেই

Link Copied!

এক হাজার ৬০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে খেলাপি হয়ে আছেন তিনি। ১৭টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। এছাড়া অন্যান্য আরও প্রায় অর্ধশত মামলাও আছে। আছে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাও। বর্তমানে তিনি কারাগারে। কিন্তু কারাগারে বসেই স্বজনদের মাধ্যমে নতুন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নেওয়ার ফন্দি আঁটছেন তিনি। আলোচিত এই ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতার নাম আসলাম চৌধুরী। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক। একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা ও আদালত সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাণিজ্য নগরী চট্টগ্রামের একসময়ের আলোচিত ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান রাইজিং গ্রুপ ও সেভেন-বি অ্যাসোসিয়েটস। এই দুই প্রতিষ্ঠানের মূল ব্যবসা ছিল পুরান জাহাজ আমদানির পর তা ভেঙ্গে ইস্পাত হিসেবে বিক্রি করা। প্রতিষ্ঠান দুটির মালিকানায় থাকা আসলাম চৌধুরী, তার স্ত্রী জামিলা নাজনিন মাওলা, ছোট ভাই আমজাদ হোসেন চৌধুরী ও জসিম উদ্দিন চৌধুরী মিলে খেলাপি হওয়া ঋণের অর্ধেক অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র জানায়, ২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত এই দুই প্রতিষ্ঠানের নামে দশটি ব্যাংক ও সাতটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় ১৬০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে খেলাপি হন। এসব ঘটনায় এই দুই ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানের মালিকদের বিরুদ্ধে প্রায় ৩০টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকে। যাতে সাউথইস্ট ব্যাংকের ১৪৯ কোটি টাকা এবং এবি ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ৩ শ’ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছিল। এছাড়া এবি ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার ৪৬৫ কোটি টাকা, সাউথইস্ট ব্যাংক হালিশহর শাখার ১৫৮ কোটি টাকা, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পাহাড়তলী শাখার ১৫৩ কোটি টাকা, ইসলামী ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার ১০৫ কোটি টাকা, যমুনা ব্যাংক ভাটিয়ারি শাখার ৮২ কোটি টাকা, ইস্টার্ন ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার ৬৯ কোটি টাকা, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার ২০ কোটি টাকা, ব্যাংক এশিয়া ভাটিয়ারি শাখার প্রায় ৯ কোটি টাকা, সিটি ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার ৭৩ কোটি টাকা, ট্রাস্ট ব্যাংক সিডিএ শাখার প্রায় ২১ কোটি টাকা এবং পূবালী ব্যাংকের সিডিএ করপোরেট ব্রাঞ্চের ৭৪ কোটি টাকা ঋণ খেলাপি রয়েছে এই চক্র।

সূত্র জানায়, শুধু ব্যাংকই নয়, এই চক্র সাতটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকেও ঋণ নিয়ে খেলাপি হয়েছিল। এর মধ্যে লঙ্কাবাংলা ফিন্যান্সের ৪০ কোটি টাকা, আইডিএলসি’র ১৯ কোটি টাকা, আলোচিত পিকে হালদারের ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স সার্ভিসেস লিমিটেডের ৫০ কোটি টাকাসহ ফারইস্ট ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের, প্রাইম ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স কোম্পানি ও ইউনিয়ন ক্যাপিটেলেরসহ প্রায় ৪০০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং দুদকের দায়ের করা মামলায় আসলাম চৌধুরী, তার স্ত্রী জামিলা নাজনিন মাওলা, ভাই আমজাদ হোসেন চৌধুরী ও জসিম উদ্দিন চৌধুরীসহ সবাই উচ্চ আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন নিয়েছেন। তবে সর্বশেষ হেফাজতের দুটি মামলায় তিনি এখনো কারাবন্দি। চট্টগ্রামের বিশেষ জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর সানোয়ার আহমেদ লাভলু বলেন, আসলাম চৌধুরী ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে দুদকের একটি মামলার বিচার কার্যক্রম চলছে। আরেকটি মামলা বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার অপেক্ষায়। এই দুই মামলার আসামিদের মধ্যে আসলাম কারাবন্দি। তার দুই ভাই আমজাদ ও জসিম পলাতক। স্ত্রী জামিলা নাজনিন জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছেন।

গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ২০১৬ সালের মে মাসে আসলাম চৌধুরীকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসময় তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির মামলা ছাড়াও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগসহ নানারকম অপরাধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগে প্রায় অর্ধ শত মামলা রয়েছে।

উচ্চ আদালত ও গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ব্যাংকগুলোর সাথে খেলাপিঋণ পরিশোধে সেটেলমেন্ট করার শর্তে বিভিন্ন সময় হাইকোর্ট থেকে জামিন পান আসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা। তবে জামিন পাওয়ার পর কোনও ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণ পরিশোধ করেননি। উল্টো ২০১৫ সালে ঋণখেলাপির কালো তালিকাভুক্ত করায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধেই উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেছিলেন তিনি। কিন্তু পরে শুনানিতে অংশ না নেওয়ায় তারা এখনও বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণখেলাপির কালো তালিকাভুক্ত। এখন কৌশল পাল্টে অন্যান্য স্বজনদের মাধ্যমে নতুন প্রতিষ্ঠানের নামে আরও ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করছে এই চক্রটি।